জিপি-রবি-কে লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:১৮  
দেশের বড় দুই মোবাইল ফোন অপারেটরের গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল কর হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। বৃহস্পতিবার উভয় অপারেটর-কে ৩০ দিন সময় দিয়ে আলাদা আলাদা নোটিশ দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক। তিনি বলেন, আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আমরা এই নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। তাদের জবাবের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে। এদিকে টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স নিয়ে নোটিশ দেয়া হলেও ফোরজি লাইসেন্স নিয়ে চিঠিতে কোনো বার্তা দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর ৪৬(২) ধারা অনুসারে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবেনা জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখিত দুই অপারেটরকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে উত্তর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, অডিটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া জনগণের টাকা দফায় দফায় চাওয়ার পরেও টাকা না দেয়ায় বাধ্য হয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে নোটিশ ইস্যুর নির্দেশনা প্রাপ্তির ১০ দিনের মাথায় আইনের ধারা মেনে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। এখন অপারেটরদের ব্যাখ্যার ওপর তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে। টেলিযোগাযোগ আইনে ৪৬ ধারা অনুযায়ী, অপারেটরদের ওপর অসন্তুষ্ট হলে লাইসেন্স বাতিল করার এখতিয়ার রয়েছে বিটিআরসি’র। নোটিশ বিষয়ে গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিটিআরসির নোটিশটি অযৌক্তিক এবং একই সঙ্গে একটি বিতর্কিত অডিট দাবির বিষয়ে গ্রামীণফোনের গঠনমূলক সমাধান প্রস্তাবের বিপরীতে তাদের অনীহার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। নোটিশটি পর্যালোচনা করার পরেই গ্রামীণফোন উত্তর দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের প্রতিষ্ঠান, শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যায্য যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানায়। অপরদিকে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম জানিয়েছেন, নোটিশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন তারা। তিনি বলেন, লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে।  যথাসময়ে আমরা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেব । প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে অপারেটর দুটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত হিসাবের ওপর অডিট করে বিটিআরসি। পরে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে। একই সঙ্গে রবির কাছে পাওনা দাবি করেছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অপারেটর দুটি বারবার অডিটের মাধ্যমে উত্থাপিত হওয়া দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিটিআরসি সে আবেদনে সাড়া দেয়নি।